আরো পড়ুন

রেল কর্মীদের সংগঠনগুলি যে আশঙ্কা করছিল, হয়তো ধীরে ধীরে সেপথেই এগোচ্ছে ভারতীয় রেল। হাওড়া-সহ মোট ৫০টি রুটে প্রাথমিকভাবে বেসরকারি উদ্যোগে রেল চালানোর সিদ্ধান্ত একপ্রকার পাকা করে ফেলল রেলমন্ত্রক। শুক্রবার রেলমন্ত্রকের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ছিল। যাতে উপস্থিত ছিলেন, উত্তর, মধ্য, দক্ষিণ-পূর্ব, উত্তর-মধ্য, দক্ষিণ-মধ্য ও দক্ষিণ রেলের প্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন রেল বোর্ডের সদস্যরাও। এই বৈঠকে একপ্রকার পাকা হয়ে গিয়েছে, দ্রুত মোট ৫০টি রুটে বেসরকারি উদ্যোগে রেল চালানো হবে।

আরো পড়ুন

বেসরকারিকরণের ক্ষেত্রে যেটা মূল বাধা সেটা হল, ভাড়া বৃদ্ধি এবং পরিষেবার ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ফলে, ট্রেনের ভাড়া অনেকটাই বাড়তে পারে। রেলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা বলছে, ভাল মানের পরিষেবা পেলে অধিকাংশ যাত্রীই অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে প্রস্তুত আছেন। সেসব কথা মাথায় রেখে, রেল আপাতত পরিকাঠামোর উন্নতির পরিকল্পনা করছে। রেল মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, এখন অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ লাইনে ক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি ট্রেন চালাতে হচ্ছে।

ফলে, রেল মন্ত্রক চাইলেও অতিরিক্ত ট্রেন চালাতে পারছে না। সেক্ষেত্রে পরিকাঠামোর উন্নতির প্রয়োজন। আর পরিকাঠামোর উন্নয়নে প্রয়োজন বিপুল অর্থ। প্রতিবছর যাত্রী ভাড়া বাবদ রেলকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের মুখ দেখতে হয়। যা বন্ধ করতে চাইছে মন্ত্রক। সেজন্যই বেসরকারিকরণের এই প্রস্তাব।

প্রাথমিক ভাবে ৫০টি রুটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রুটগুলির ট্রেনকে বেসরকারি কোনও সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। তালিকায় আছে হাওড়া-দিল্লি, হাওড়া-মুম্বই, হাওড়া-চেন্নাই, দিল্লি-মুম্বই, দিল্লি-চেন্নাইয়ের মতো দূরপাল্লার রুট। একাধিক স্বল্প দৈর্ঘ্যের ইন্টার সিটি রুটও রয়েছে তালিকায়। বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে কলকাতা ও মুম্বইয়ের লোকাল ট্রেন পরিষেবার একাংশকেও।

বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে চালানো ট্রেনের ভাড়া ওই রুটের অন্য ট্রেনের চেয়ে বেশি হবে, তাতে সন্দেহ নেই। মন্ত্রক জানাচ্ছে, প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা আলাদা দরপত্র ডাকা হবে। যে সংস্থা রেলকে বেশি অর্থ দেবে তার হাতেই ওই রুটে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট দিনে ট্রেন চালানোর অধিকার তুলে দেওয়া হবে।

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here