আরো পড়ুন

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ৬ আগস্ট: কাশ্মীর পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিলের আলোচনায় আজ লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীর এবং আকসাই চীন ভারতেরই অংশ। এর জন্য প্রাণ দিতেও তিনি প্রস্তুত। লোকসভায় অমিত শাহ আরও বলেছেন, জম্মু-কাশ্মীরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এলেই আবার পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হবে। গতকাল রাজ্যসভায় জম্মু ও কাশ্মীর রিঅরগানাইজেশন বিল পাশ করানোর পর আজ লোকসভায় ওই বিল পাশ করানো হয়েছে। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩৭০। বিপক্ষে ভোট পড়েছে ৭০। ভোটের ফল থেকেই স্পষ্ট কংগ্রেস, সিপিএম, সমাজবাদী পার্টির মতো কয়েকটি দল ছাড়া আরও কোনও দলই কাশ্মীর বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেয়নি। হয় বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে অথবা ওয়াক আউট করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস আজও ওয়াক আউট করেছে।
অমিত শাহকে কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী আজ প্রশ্ন করেছিলেন আপনাদের এই কাশ্মীর সংক্রান্ত বিলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর, আকসাই চীনের কোনও উল্লেখই নেই। তার মানে তো ভারত সরকার এই প্রথম সরকারিভাবেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর আর আকসাই চীনের উপর দাবি ছেড়ে দিল! এটা ভারতবাসীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। পাল্টা অমিত শাহ তৎক্ষণাৎ বলেছেন, আমি যখন জম্মু কাশ্মীরের কথা বলছি, তখন তার মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর ও আকসাই চীনের কথাও থাকছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জন্য আমি প্রাণ দিতেও প্রস্তুত। এদিকে রাষ্ট্রপতির একটিমাত্র স্বাক্ষরের মাধ্য঩মে যেভাবে একদিনের মধ্যে জম্মুকাশ্মীরের স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বদলে ৩৭০ ধারা বাতিল ও পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা হ্রাস করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হয়েছে তা দেখে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিরোধীরা। বিরোধীদের প্রশ্ন, এরপর দেশের অন্য প্রান্তেও যেসব বিশেষ আইনি অধিকার বিভিন্ন রাজ্যকে দেওয়া হয়েছে সেগুলিরও অবলুপ্তি করা হবে! উত্তর পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির প্রতিটির জন্যই ৩৭১ ধারায় বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে। সেই অধিকার অনুযায়ী নাগাল্যান্ড কিংবা মিজোরামের মতো আরও একঝাঁক রাজ্যে কোনও ভারতীয় জমি সম্পত্তি ক্রয় করতে পারবেন না। সরকারি চাকরিতে অধিকার নেই। তাহলে সেই অধিকারও থাকবে না একদিন।
আজ অমিত শাহ বলেছেন, কাশ্মীরের ৩৭০ নং ধারার সঙ্গে উত্তর পূর্ব ভারতের ৩৭১ ধারার কোনও তুলনাই চলে না। আমি আশ্বাস দিচ্ছি উত্তর পূর্ব ভারতের কোনও রাজ্য থেকেই ৩৭১ নং ধারা বাতিল করা হবে না। বিরোধীরা উত্তর পূর্ব ভারতকে বিভ্রান্ত করার জন্যই এই প্রচার চালাচ্ছে। প্রসঙ্গত অরুণাচল প্রদেশে প্রবেশ করতে যে ইনার পারমিট প্রয়োজন হয় কিংবা অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মতো বিশেষ স্ট্যাটাস একইরকম থাকবে বলে আজ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অর্থাৎ ওইসর রাজ্যে কিংবা গুজরাত, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতেও আংশিকভাবে বিশেষ আইনি স্ট্যাটাস থেকে যাচ্ছে। একমাত্র জম্মুকাশ্মীরের ক্ষেত্রেই ৩৭০ নং ধারা খারিজ করা হল।
লোকসভায় আজ আলোচনায় বারংবার বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন, কাশ্মীরের অন্দরে কী হচ্ছে সেই সংবাদ সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট করা হয়েছে কেন? কিছুই জানা যাচ্ছে না কাশ্মীরে আসলে কী ঘটছে। কাশ্মীর রিঅরগানাইজেশন বিল পাশ করানোর প্রাক্কালে পরিলক্ষিত হয় বেনজির দৃশ্য। আচমকা প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে দেখেই গোটা সরকারিপক্ষের বেঞ্চ উঠে দাঁড়ায়। এমপি থেকে মন্ত্রীরা জয়ধ্বনি দিতে শুরু করেন নরেন্দ্র মোদির। স্লোগান ওঠে জয় শ্রীরাম ও ভারত মাতা কী জয়! চমকের তখনও বাকি ছিল অবশ্য। কারণ লোকসভার এই অধিবেশন চলার কথা ছিল ৯ আগস্ট পর্যন্ত। কাশ্মীর বিল বিপুলভাবে জয়লাভ করার পর আজ আচমকা গোটা সভাকে বিস্মিত করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ঘোষণা করেন অধিবেশন আজই সমাপ্ত হয়ে গেল!

আরো পড়ুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here